চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একটি খামারে চুরির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের বিনিময়ে ভুক্তভোগী খামারির কাছ থেকে ঘুষ দাবির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। রামদাস হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন কবির মৃধার বিরুদ্ধে এই অর্থ দাবির অভিযোগ করেছেন খামারের মালিক নুরুল আলম (৪৫)।
বাঁশখালীর চন্দ্রপুর গ্রামের বরপুরা এলাকার ‘জামশেদ এক্সপ্রেস ডেইরি অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফার্ম’-এর মালিক নুরুল আলম গত ৭ জুলাই দিবাগত রাতে নিজ খামারে চুরির শিকার হন। চুরির সন্দেহে ২৩ জুন খামার দেখাশোনার জন্য নিযুক্ত কর্মচারী ছনুয়া ইউনিয়নের মধুখালী এলাকার মাহমুদুল করিম ওরফে মাদুকে (৩২) অভিযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই আদালতের নির্দেশে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আরজিতে প্রজেক্টের ড্রয়ার থেকে নগদ ২৭ হাজার টাকা, ৩ হাজার টাকা মূল্যের পাঁচটি দেশি মুরগি এবং ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় চুরির অভিযোগ আনা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান এসআই সুমন কবির মৃধা। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেদন পজিটিভ দেওয়ার কথা বলে খামারি নুরুল আলমের কাছে বারবার টাকা দাবি করা হচ্ছে। নুরুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে নাশতা ও গাড়িভাড়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২৬ আগস্ট সরেজমিনে খামার তদন্তে গিয়ে ওসিকে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই সুমন। না দিতে পারায় তাৎক্ষণিক ৩ হাজার টাকা আদায় করেন এবং বাকি ২ হাজার টাকা না দিলে পক্ষে রিপোর্ট না দেওয়ার সাফ জানিয়ে দেন।
অর্থ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এসআই সুমন কবির মৃধা ফোনকলে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে বলেন, “টাকার বিষয়ে এটা কওয়া লাগে নাকি? মামলার রিপোর্ট দেওয়ার জন্য কিছু খরচ আছে না?” তবে পরবর্তীতে তিনি জোর করে টাকা নেওয়ার অভিযোগটি ভুয়া বলে দাবি করেন।
এদিকে ওসির নাম ভাঙিয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো ধরনের অপকর্মকে তিনি প্রশ্রয় দেন না এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, স্থানীয়রা জানান যে এসআই সুমন কবির মৃধার বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের এমন অভিযোগ আগেও একাধিকবার উঠেছে।

