কর্ণফুলী থানার অভিযানে নগদ ৩ লাখ ৫ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার ২
“উখিয়া থেকে ট্রাক, আনোয়ারা-কর্ণফুলী থেকে ৯৬ গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার, আত্মসাতের ঘটনায় মোট ৫ জন আইনের আওতায়”
হোসেন মিন্টু, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে গ্যাস সিলিন্ডার আত্মসাতের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে কক্সবাজার থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, আত্মসাৎকৃত পণ্য বিক্রির নগদ ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার এবং উখিয়া থেকে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এর আগে পৃথক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৯৬টি আই-গ্যাস সিলিন্ডার এবং আরও তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২০ আগস্ট ২০২৬ কক্সবাজার জেলার কলাতলীর হেলাল রিসোর্ট আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে মো. আল আমিন (২৫), পিতা- মোহন মিয়া, বাড়ি- লালমাই, কুমিল্লা এবং মো. মাহিন খান (২৩), পিতা- হাফেজ আহাম্মদ, বাড়ি- আনোয়ারা, চট্টগ্রামকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে আত্মসাৎকৃত পণ্য বিক্রির নগদ ৩,০৫,০০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কক্সবাজারের উখিয়া থানার আওতাধীন মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রো-ট-১৫-৪২০২ নম্বরের একটি ট্রাক উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত ট্রাকটির আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনার তদন্ত এর আগেও কর্ণফুলী ও আনোয়ারা থানা এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে আত্মসাৎ হওয়া ৯৬টি আই-গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন বড়উঠান রাস্তার মাথার পূর্ব পাশে মেডিকেল রোডস্থ মেসার্স আজিজ ট্রেডিং থেকে চালক মো. আল আমিন, নুরুল আলম (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের সহযোগিতায় ব্যবসায়ী মো. সোহেল (৩৬)-এর ৫৭৪টি গ্যাস সিলিন্ডার ও একটি ট্রাক একই উদ্দেশ্যে অসৎ উপায়ে আত্মসাৎ করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মো. সোহেল কর্ণফুলী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে কর্ণফুলী থানার মামলা নং-২৫, ১৭ আগস্ট ২০২৬, পেনাল কোডের ৪০৭/৪২০/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
কর্ণফুলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ, ট্রাক ও গ্যাস সিলিন্ডার আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

