শনিবার  লায়ন্স আই ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটালের যাত্রা শুরু 

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বমানের সেবার অঙ্গীকার নিয়ে আগামীকাল শনিবার থেকে যাত্রা শুরু করছে লায়ন্স আই ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটাল। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর জাকির হোসেন রোডে চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯৬৫ সালে ৩০টি বেড নিয়ে এই হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয় এবং বর্তমানে ১০০টি বেড নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের একটি গর্বিত প্রকল্প চট্টগ্রাম লায়ন্স আই ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটাল। চক্ষু বিষয়ক উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অনুমোদন লাভ করেছে। সে প্রেক্ষিতে গত জানুয়ারি থেকে এমএলওপি এবং পোস্ট–গ্র্যাজুয়েট সাবস্পেশালিটি ফেলোশিপ কোর্সের কার্যক্রম শুরু হয়। চক্ষু বিষয়ক উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গঠনের লক্ষে ভবিষ্যতে আমরা উচ্চতর কোর্স পরিচালনার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করেছি। এখন আমরা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে যাচ্ছি। আমরা কারো প্রতিপক্ষ না, প্রতিদ্বন্দ্বীও না। সবাই ভালো করছে, আমরাও ভালো করার চেষ্টা করবো। আমরা স্বপ্ন দেখি আমাদের এখান থেকে রোগীরা বিশ্বমানের সেবা পাবে। আগামী শনিবার লায়ন্স আই ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটালের উদ্বোধন করবেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। নাসির উদ্দিন চৌধুরী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অধিভুক্তির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম লায়ন্স আই ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটাল কর্তৃপক্ষ ডিপ্লোমা ইন অফথ্যালমোলজি কোর্স অধিভুক্তির জন্য আবেদন করেছি। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরিদর্শন টিম আমাদের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম এর প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে আই ক্যাম্প (চক্ষু শিবির), স্কুল সাইট স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম ও পারিবারিক স্বাস্থ্য পুষ্টি এবং শিক্ষা প্রকল্প এবং সিটি সেন্টারে আধুনিক মানের হাসপাতাল– এই সমন্বিত কার্যক্রম এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন সেই ১৯৬৩ সাল হতে সমগ্র চট্টগ্রাম বিভাগে অন্ধত্ব বিমোচন, দূরীকরণ ও চক্ষুরোগের চিকিৎসা পরিচালনা করে আসছে। সেবামূলক কার্যক্রম আরো আধুনিক, উন্নত ও প্রসারিত করতে ২০১৭ সালে লায়ন্স ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ এই হাসপাতালকে একটি রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স মানে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সে অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়।

চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে এই হাসপাতাল প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ জন দুস্থ, গরীব, দরিদ্র রোগীকে বিনামূল্যে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির রোগীকে সাশ্রয়ীমূল্যে চক্ষু সংক্রান্ত সকল রোগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এখনো আপনারা যদি প্রয়োজন মনে করেন, কোনো দরিদ্র রোগী টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না, আপনারা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারম্যান লায়ন নাজমুল হক চৌধুরী, সাবেক জেলা গভর্নর লায়ন সিরাজুল হক আনসারী, চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি লায়ন ডা. দেবাশীষ দত্ত, চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার লায়ন এস জোহা চৌধুরী, লায়ন্স আই ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটালের একাডেমিক ডিরেক্টর ডা. প্রকাশ কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের এসোসিয়েট ডিরেক্টর লায়ন আশরাফুল আলম আরজু প্রমুখ।

Similar Articles

Advertismentspot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত