মদের ক্রেতা সেজে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার ঘর থেকে ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এসব মদের বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। তবে সেই ছাত্রদল নেতা পালিয়ে গেলেও আটক করা হয়েছে তার দুই সহযোগীকে। এ ঘটনায় তাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম মোহাম্মদ আবু শাকিল (৩৩)। তিনি বন্দর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
মদ রাখা ও বিক্রির অভিযোগে আটক তার দুই সহযোগী হলেন—পুষ্পেন ব্যানার্জি (৫৮) ও শামসুল ইসলাম (৪৭)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর বন্দর থানার দোভাষ লেন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর বন্দর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু শাকিলের বন্দর থানার কে বি দোভাষ লেন এলাকায় তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় শাকিলের শোয়ার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এসব মদের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
এর আগে মধ্যম গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় মদ কেনাবেচার তথ্য পায় পুলিশ। পরে পুলিশ সদস্যরা ক্রেতা সেজে ওই বাড়িতে গেলে তাদের আবু শাকিলের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে শাকিল পালিয়ে গেলেও আটক করা হয় দুই সহযোগীকে।
এ ঘটনার পর শাকিলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শাকিলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, মাদক কারবারিরা মাদক কেনাবেচার জন্য দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন জানান, শাকিলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকেও পুরো ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।

