চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ দিন ধরে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আনুমানিক ৫২ থেকে ৫৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। তাঁর নাম-পরিচয় কিংবা স্বজনদের সন্ধান না পাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা থাকায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না পেলে তাঁর জীবন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পটিয়া থানার মোড় এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন ওই ব্যক্তি। দুর্ঘটনার পর এক যুবক তাঁকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সে সময় তাঁর মাথা দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়ার পর থেকে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হলেও ওই ব্যক্তি এখনো অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। হালকা-পাতলা গড়নের ওই ব্যক্তির গায়ের রং কালো এবং মুখে সাদা দাড়ি-গোঁফ রয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। স্বজন বা পরিচিত কারও সন্ধান না পাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাঁর পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়েছে।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, হাসপাতালে ওই ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে তাঁর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে তাঁর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদ ওসমান বলেন, রোগীটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন প্রায় ১৬ দিন ধরে। ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাঁর মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি অচেতন থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু স্বজন বা পরিচিত কেউ না থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি পটিয়া উপজেলা প্রশাসন, পটিয়া থানা ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসকে জানানো হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা অজ্ঞাত ব্যক্তিটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, পরিচয় বা স্বজন না থাকায় একজন অসহায় মানুষ কি উন্নত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবেন? বর্তমানে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

