পটিয়ায় রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা। রেললাইন অতিক্রম করার সময় একটি মিনি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে ঢাকাগামী ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে লাইনচ্যুত হয়ে গেছে একটি বগি। এতে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে পটিয়ার কমল মুন্সির হাট বাজারসংলগ্ন চক্রশালা রেলস্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পটিয়া রেলস্টেশনের মাস্টার আবদুস সালাম ভূইয়া জানান, দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারে কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজ শেষ হলে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল সড়কের চক্রশালা ও পটিয়ার বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা নতুন নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্রসিংয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, গেট ও গেটম্যান না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের রেললাইন পার হতে হয়।
চক্রশালা স্টেশনের আগে গিরিশ চৌধুরী বাজারসংলগ্ন পারিগ্রাম সড়কসহ একাধিক ক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকায় স্থানীয়রা সবসময় আতঙ্কিত থাকে। চলতি বছরের জুনে পটিয়ার শ্রীমাই ব্রিজ এলাকায় রেললাইন পার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় এক নারী শ্রমিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। শুধু পটিয়াতেই নয়, এ রেল সড়কে গত রোববার সাতকানিয়ার কালিয়াইশের অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রী নিহত হন। স্থানীয়রা ওই ঘটনার পর রেললাইনে বিক্ষোভও করেন। রেলওয়ের পক্ষ থেকে সেখানে গেটম্যান দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে এ রেলপথে দুর্ঘটনার কয়েকটি বড় ঝুঁকি সামনে আসে— অরক্ষিত বা অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার লেভেল ক্রসিং, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের একাধিক ক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকা, রেললাইনের সঙ্গে স্থানীয় সড়কের সরাসরি সংযোগ, যানবাহন চলাচলের সড়ক রেললাইনের সঙ্গে একই সমতলে থাকায় চালকদের অসতর্কতা বা দ্রুত পারাপারের চেষ্টা এবং রেলপথের আশপাশে যানবাহন অবস্থান করা।
আজকের দুর্ঘটনায় রেললাইন অতিক্রম করতে গিয়ে কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। ফলে রেললাইনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও নির্ধারিত জায়গার বাইরে যানবাহন অবস্থান নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও উঠেছে। রেলক্রসিংয়ে সতর্ক সংকেত থাকলেও অনেক চালক ও পথচারী ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হন। অরক্ষিত ক্রসিংয়ে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
রেলওয়েসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্ঘটনা কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে গেট, গেটম্যান ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি রেললাইনের পাশে অবৈধভাবে যানবাহন রাখা বন্ধ করা জরুরি।
এদিকে পরপর দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একদিকে নতুন রেলপথে কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ট্রেন যোগাযোগ বাড়ছে, অন্যদিকে রেলক্রসিং ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা অবকাঠামোর ঘাটতি থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান নয়, দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে চক্রশালা, কমল মুন্সির হাট ও পটিয়ার অন্যান্য ব্যস্ত রেলক্রসিংয়ে গেট, গেটম্যান, সিগন্যাল এবং রেললাইনের পাশে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

