লোডশেডিংয়ের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে  পানিসংকট, চরম জনভোগান্তি

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াটের লোডশেডিং হচ্ছে। ঘনঘন বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে কারখানার ভারী মেশিন নষ্ট হতে চলেছে। বিদ্যুতের বরাদ্দ প্রতিনিয়ত ওঠানামার কারণে লোডশেডিংয়ের শিডিউল নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। যাদের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা নেই, এসব শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পমালিকরা রেশনিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।

বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং চলছে। এতে কারখানায় যান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। ঘনঘন আসা-যাওয়ার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

পিডিবি জনায়, চট্টগ্রামে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ১৪০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার ঠিক রাখা যাচ্ছে না। কিছু শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের আলাদা লাইন থাকলেও অধিকাংশ কারখানায় নেই। গার্মেন্টসহ শত শত কারখানা নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে থাকায় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে।

বিজিএমইএ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেল চালিত জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদন চালু রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য ডেলিভারি দেওয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রামে হাজার কোটি টাকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ অপেক্ষা করছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটে বিনিয়োগকারীরা বিমুখ হবে।

রাউজান ও শিকলবাহায় ৩৫০ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুেকন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কয়েক দিন আগে বাঁশখালীতে নির্মিত কয়লানির্ভর বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে উৎপাদন চালু করা হয়। কিন্তু বর্তমানে তাদের যে পরিমাণ কয়লা মজুত আছে তা দিয়ে দৈনিক ২০০ মেগাওয়াট করে চার-পাঁচ দিন চালু রাখা যাবে।

এদিকে নদীর পানিতে লবণাক্ততায় ওয়াসার পানি উৎপাদন আবার কমে গেছে। পানি সংগ্রহের জন্য বসানো ফিল্টারে শ্যাওলা ঢুকে যাচ্ছে। এতে পানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, যেখানে দৈনিক ৪৮/৪৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ দেওয়া হতো, সেখানে  ৪০ কোটি ৮০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

Similar Articles

Advertismentspot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত