চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে ট্রেনের ভাড়া সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা আর সর্বোচ্চ ৬৯৬ টাকা

অনলাইন ডেস্ক

আগামী ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহাজারী-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করবেন। ইতোমধ্যে ট্রায়াল রানও শেষ হয়েছে। অবশ্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ট্রেন চলাচলের সময় নির্ধারণ করা হয়নি। নতুন এই রেললাইনে ৯টি স্টেশন রয়েছে।

রেলওয়ের মার্কেটিং শাখা থেকে ৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়। এই ভাড়া রেলওয়ের মহাপরিচালক অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া ঠিক করা হয়েছে। তবে এই রুটে কয়টি ট্রেন চলবে, কখন চলবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রেল ভবনের নির্দেশনা পেলে, তা ঠিক করা হবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে পর্যটন শহর কক্সবাজারে ট্রেনে করে যেতে লাগবে সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা আর সর্বোচ্চ ৬৯৬ টাকা। আর শোভন চেয়ারে বসে যেতে দিতে হবে ২০৫ টাকা। এসি চেয়ারের জন্য ৩৮৬ এবং এসি সিটের জন্য ৪৬৬ টাকা।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ১৫০ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। তবে বাণিজ্যিক দূরত্ব হচ্ছে ১৮৯ কিলোমিটার। মূলত ৬টি সেতুর জন্য এই বাড়তি ৩৮ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দূরত্ব ধরা হয়েছে। একে রেলওয়ে পন্টেজ চার্জ বলা হয়।

এদিকে এখন পর্যন্ত আন্তনগর ট্রেন পরিচালনা করার পরিকল্পনা থাকলেও লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। শুধুমাত্র আন্তনগর ট্রেন পরিচালনা করার পরিকল্পনা আছে।

উল্লেখ্য, ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার এবং রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিলোমিটার।

শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। তাতে অর্থায়ন করেছে এশিয়ান ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার। এটি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতাভুক্ত।

Similar Articles

Advertismentspot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত