হালকা বৃষ্টিতে ভাসল চট্টগ্রাম নগরী, বাসাবাড়িতে নালার পানি

অনলাইন ডেস্ক

বর্ষার মৌসুম ছাড়াও বৃষ্টি মানেই চট্টগ্রামের পথঘাট জলে ডুবে একাকার। তা হালকা কিংবা ভারী, যেই ধরনের বৃষ্টিই হোক না কেন। বুধবার (২৪ মে) সকাল থেকে অবিরত হালকা থেকে মাঝারি আকারের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয় নগরে। এরপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলতে থাকে। সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর ৩টা নাগাদ হালকা থেকে মাঝারি আকারের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ মিলিমিটার। বিকেলের পর থেকে রাত পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ভারী বৃষ্টিপাতের তেমন সম্ভাবনা নেই। তবে অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।’

এদিকে সকাল থেকে হওয়া বৃষ্টিতে বহদ্দারহাট, ষোলশহর, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, বাকলিয়া, ছোটপুল, বড়পোল, আগ্রাবাদ বেপারি পাড়া, মহুরিপাড়া, সিডিএ আবাসিক, আতুরার ডিপো, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার কোথাও গোড়ালি সমান আবার কোথাও কোথাও হাঁটু পর্যন্ত পানি উঠেছে সড়কে।

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়া সৌরভ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি আর বজ্রপাত হওয়ায় বের হতে পারছিলাম না। শেষ পর্যন্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুপুরের দিকে বের হলাম। কিন্তু ঘর থেকে বের হয়েই দেখি রাস্তায় গোড়ালি সমান পানি। আবার রিকশাও তেমন একটা নাই। তাই ভিজে ভিজে ময়লা পানি পেরিয়ে বাজারে আসতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটু বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে। এ চিত্র সবসময়ের। কবে যে মুক্তি পাবো। ড্রেনগুলো ঠিকঠাক পরিষ্কার করলে এমন পানি জমে না। বর্ষা আসার আগে এমন হলে বর্ষায় কি যে হবে।’

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চেয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মোবারক আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি কম। যে কারণে কয়েক বছর ধরে কাজ চললেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না নগরবাসী।

Similar Articles

Advertismentspot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত