পতেঙ্গা কাঠগড় বাজারে ফের চসিকের উচ্ছেদ অভিযান দখলমুক্ত ফুটপাতের পাশাপাশি হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি
হোসেন মিন্টু, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা কাঠগড় বাজারে অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমা-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ফুটপাত, সড়ক এবং সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখলের চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
চসিক সূত্রে জানা যায়, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট নিরসন এবং সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগেও গত সপ্তাহে একই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পাশাপাশি জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। তবে পুনরায় দখলের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসন আবারও মাঠে নামে।
অভিযান চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমা বলেন, সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন জমি, সরকারি সম্পত্তি কিংবা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জমিতে অবৈধভাবে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য বা স্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ নেই। জনস্বার্থে এ ধরনের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালিত হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও অর্থদণ্ডসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “ফুটপাত পথচারীদের জন্য, রাস্তা যানবাহন চলাচলের জন্য। এসব স্থান দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করলে জনদুর্ভোগ বাড়ে। তাই অবৈধ দখল কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।” অন্যদিকে অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হকার ও ব্যবসায়ী নেতারা প্রশাসনের কাছে মানবিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে কাঠগড় বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে হাজারো পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। বারবার উচ্ছেদ অভিযানে তাদের পুঁজি নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ছে। ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সরকার বা সিটি কর্পোরেশন যদি তাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে স্থায়ী বাজারের ব্যবস্থা করে অথবা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তারা আর সরকারি জমি, ফুটপাত কিংবা সড়ক দখল করে ব্যবসা করবেন না। তারা বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ চান।
তাদের মতে, একদিকে যেমন পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন হবে এবং নগরীর শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও জীবিকা হারানোর আশঙ্কা থেকে মুক্তি পাবেন। তাই উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
স্থানীয়দেরও অভিমত, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখা যেমন জরুরি, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থাও সময়ের দাবি। এতে প্রশাসনের আইন প্রয়োগ এবং মানবিক দায়বদ্ধতার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

