দুর্নীতির অভিযোগ বনাম দীর্ঘ সফল ক্যারিয়ার

পটিয়ায় সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মামলা ও আত্মপক্ষ সমর্থন

অনলাইন সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা ষোড়শী বালা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ আবদুল গনির (এম.এ; এম.এড) বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের তহবিল তছরুপ ও দুর্নীতির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পক্ষান্তরে, অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তাঁর দীর্ঘ ২৬ বছরের সফল শিক্ষকতা ও বিভিন্ন অর্জনের বিবরণ তুলে ধরেছেন।
​মামলার বিবরণী ও দুর্নীতির অভিযোগ:
বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সাধারণ সম্পাদক সুকৃতি রানী দে বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, পটিয়ায় সি.আর. মামলা নং- ৪১৯/২০২৪ (ধারা: ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭৭(এ)/৫০৬(২)) দায়ের করেন।
​মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক পদে থাকাকালে জাল কাগজপত্র, ভুয়া রেজুলেশন ও ভাউচার প্রস্তুত করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিলের টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের দু’টি পুকুর ইজারা ও খনন বাবদ জাল ভাউচার তৈরি এবং করোনাকালীন প্রাঙ্গণের মেহগনি ও সেগুন গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত ৮৫,০০০ টাকা ক্যাশ বহিতে না তুলে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক গঠিত অডিট কমিটির তদন্তে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে বিদ্যালয়ের ৫,১৩,৩২৭/- (পাঁচ লাখ ১৩ হাজার তিনশত সাতাশ) টাকা তছরুপের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয় এবং আসামির বিরুদ্ধে সরাসরি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়।
​সাবেক প্রধান শিক্ষকের আত্মপক্ষ সমর্থন ও অর্জনের খতিয়ান:
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ আবদুল গনি তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি ১৯৯০ সাল থেকে শিক্ষকতা এবং ১৯৯৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর সুদৃঢ় অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অডিট অনুমোদন, সঠিক রেজুলেশন ও নিয়মমাফিক ক্যাশ বই সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন।
​তাঁর শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনের খতিয়ানে দেখা যায়:
​শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান: ২০১৯ ও ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পটিয়া উপজেলায় দুইবার ‘শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক’ নির্বাচিত হন এবং ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি উপজেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়’ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
​আন্তর্জাতিক সম্মাননা: শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে তিনি ভারত থেকে ‘মহাত্মা গান্ধী পিস এ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।
​অন্যান্য স্বীকৃতি: ২০০৮ সালে ভোকেশনাল কোর্সে ৯২.৬৭% সাফল্য অর্জনের জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের ধন্যবাদ পত্র লাভ এবং ২০২০ সালে ৪২তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।
​স্কাউটিং ও সামাজিক নেতৃত্ব: স্কাউট আন্দোলনে অবদানের জন্য ২০১১ ও ২০২২ সালে ন্যাশনাল সার্টিফিকেট এবং ‘মেডেল অব মেরিট’ লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি পটিয়া উপজেলার সভাপতি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহ-সভাপতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।
​আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্তের মাধ্যমে পুরো সত্য উন্মোচিত হবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন।

Similar Articles

Single Sidebar 1
  • সর্বশেষ
  • পঠিত