চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ব্যবসায়ী প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর জীবনের এক গোপন অধ্যায় উঠে এসেছে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি ওয়াদার অনুসন্ধানে।
ওয়াদার সংগৃহীত নথিতে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু মিনাকো কাওয়ারাজাকিকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের দুই মেয়ে রয়েছে। মৃত্যুর ১৪ বছর পর বড় মেয়ে হাজির হয়েছেন তাঁর প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকার নায়েন সায়ের দীর্ঘ প্রতিবেদনটি করেছেন।
আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পরিচয়
আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চট্টগ্রামের একজন শিল্পোদ্যোক্তা হলেও পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক, বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্য, চারবারের সংসদ সদস্য এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) প্রতিষ্ঠায় সহায়তাকারী একজন ব্যবসায়ী।
একই সঙ্গে তিনি ছিলেন এমন একটি পরিবারের প্রধান, যাদের প্রভাব একসময় দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। প্রকাশ্য নথি ও জীবনীতে তাঁর পারিবারিক পরিচয়ও অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত।
তিনি বিয়ে করেছিলেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মেয়ে নূর নাহার জামানকে। প্রকাশিত বিভিন্ন বিবরণ অনুযায়ী, তাঁদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।

কিন্তু ডেইলি ওয়াদার অনুসন্ধানে জাপান সরকারের কিছু নথি, ব্যাংকিং দলিল, ছবি এবং একটি সাক্ষাৎকার থেকে আরেকটি পরিবারের তথ্য উঠে এসেছে। যে পরিবারের কথা বাবুর জীবন সম্পর্কে প্রকাশিত বিবরণগুলোতে একেবারেই অনুপস্থিত।
নথি অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাজ্যে মিনাকো কাওয়ারাজাকি নামের এক জাপানি নারীকে বিয়ে করেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ওই ঘরে তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে নীনা কাওয়ারাজাকির জন্ম যুক্তরাজ্যে, ১৯৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বিয়ের প্রায় চার মাস পর।

ওয়াদার পর্যালোচনা করা নথিতে তাঁদের ছোট মেয়ের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এখন, বিয়ের প্রায় ৩৪ বছর এবং আখতারুজ্জামানের মৃত্যুর ১৪ বছর পর, নীনার নাম উঠে এসেছে সেই ব্যাংকে জমা দেওয়া নথিতে, যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় তাঁর বাবা সহায়তা করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিতে বলপ্রয়োগের ঘটনাতেও জড়িয়ে পড়েছিলেন।
নীনা একটি স্থায়ী আমানত বা এফডিআর ভাঙিয়ে টাকা তুলতে চান। তবে অর্থের বিষয়টি এই গল্পের কেবল একটি অংশ।
প্রথমবারের মতো মিনাকোও তাঁদের বিয়ে নিয়ে কথা বলেছেন। হোয়াটসঅ্যাপে ওয়াদার সঙ্গে আলাপে তিনি আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর এমন এক জীবনের কথা বর্ণনা করেছেন, যা বাংলাদেশে তাঁর স্বামীর পরিচিত জগৎ থেকে প্রায় সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। এমনকি, মিনাকোর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের খবর থেকেই স্বামীর মৃত্যুর কথা জানতে পারেন।
জাপানের নথিতে বিয়ের তথ্য
ওয়াদার পর্যালোচনা করা প্রথম নথিটি হলো ঢাকার জাপান দূতাবাস থেকে ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ ইস্যু করা একটি বিয়ের সনদ। সনদে স্বামীর নাম লেখা হয়েছে ‘চৌধুরী আখতারুজ্জামান’।
তাঁর জন্মতারিখ ১৯৪৫ সালের ৩ মে এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। স্ত্রীর নাম মিনাকো কাওয়ারাজাকি। তাঁর জন্ম ১৯৬০ সালের ২২ মার্চ এবং তিনি জাপানের কানাগাওয়া প্রিফেকচারে বসবাস করতেন বলে উল্লেখ রয়েছে। সনদে বিয়ের তারিখ হিসেবে ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট এবং বিয়ের স্থান হিসেবে যুক্তরাজ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সনদে বলা হয়েছে, এর ভিত্তি ছিল কানাগাওয়া প্রিফেকচারের চিগাসাকি শহরের মেয়র কর্তৃক দুই দিন আগে ইস্যু করা সরকারি পারিবারিক নিবন্ধনের একটি সত্যায়িত অনুলিপি।
এ বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জাপান দূতাবাস থেকে ইস্যু করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান আরেকটি সনদেও একই তথ্য পুনরুল্লেখ করা হয়েছে। চিগাসাকি শহরের পারিবারিক নিবন্ধনের নতুন অনুলিপির ভিত্তিতে তৈরি ওই সনদে বলা হয়েছে, মিনাকো ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নাগরিক আখতারুজ্জামান চৌধুরীকে বিয়ে করেন। তবে একটি অসংগতি রয়েছে। জাপানি নথিতে আখতারুজ্জামানের জন্মতারিখ ১৯৪৫ সালের ৩ মে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে প্রকাশিত তাঁর জীবনীতে জন্মতারিখ ১ মে উল্লেখ করা হয়। তবে বিয়ের তথ্যটিই তাঁর জীবনীতে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।
এরপর কী ঘটেছিল, জাপান সরকারের আরেকটি নথি তার আংশিক বিবরণ দেয়। এ বছরের ৮ এপ্রিল হংকংয়ে জাপানের কনস্যুলেট জেনারেল থেকে ইস্যু করা একটি জন্মসনদে কাওয়ারাজাকি নীনার নাম রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাঁর জন্ম ১৯৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে। সনদে ‘পিতা’ হিসেবে লেখা রয়েছে ‘আখতারুজ জামান চৌধুরী’। ‘মাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘কাওয়ারাজাকি মিনাকো’। ‘সম্পর্ক’ অংশে লেখা রয়েছে ‘প্রথম কন্যা’। ওয়াদার পর্যালোচনা করা জাপানি ভাষার পারিবারিক নিবন্ধনের একটি নির্যাসেও একই তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে নীনার জন্মস্থান লন্ডন এবং তাঁর মা হিসেবে মিনাকোর নাম উল্লেখ রয়েছে।
মিনাকো ওয়াদাকে জানিয়েছেন, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর দুই মেয়ে রয়েছে। তবে তিনি তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চাননি।
একটি চিঠি ও ব্যাংক চেক
২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখের একটি চিঠি না এলে একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় হয়তো অল্পসংখ্যক মানুষের জানা বিষয় হিসেবেই থেকে যেত। চিঠিটি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক বরাবর লেখা। এতে স্বাক্ষর রয়েছে নীনা কাওয়ারাজাকি (জামান চৌধুরী) নামে।

নীনা চিঠিতে লিখেছেন, “আমি আমার প্রয়াত বাবা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যৌথভাবে আপনাদের শাখায় ২০১২ সাল থেকে একটি স্থায়ী আমানত পরিচালনা করে আসছি… যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন করা হয়।” তিনি ব্যাংকটিকে ওই আমানত ভাঙিয়ে অর্থ পরিশোধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে নীনা তাঁর পক্ষে আমানতের অর্থ গ্রহণের জন্য মা মিনাকো কাওয়ারাজাকি (জামান চৌধুরী)-কে অনুমোদন দিয়েছেন। চিঠিতে ইউসিবির গ্রহণের সিল রয়েছে, যার তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর।
আরেকটি নথি এ বিষয়ে একটি সম্ভাব্য নথিভিত্তিক যোগসূত্র তুলে ধরে। এটি ইউসিবির ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখের একটি স্থায়ী আমানতের রসিদ, আখতারুজ্জামানের মৃত্যুর প্রায় আট মাস আগের নথি। এতে আমানতকারীর ঘরে দুটি নাম লেখা রয়েছে:
“AKHTARUZZAMAN CHOWDHURY & NIINA KAWARAZAKI (ZAMAN CHOWDHURY)”
আমানতের পরিমাণ ছিল এক কোটি টাকা। রসিদ অনুযায়ী, এটি ছিল বার্ষিক ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে তিন মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানত।

২০১২ সালের রসিদে থাকা হিসাব নম্বরের সঙ্গে নীনার ২০২৬ সালের আবেদনে উল্লেখ করা হিসাব নম্বরের মিল রয়েছে। তবে লেখার বিন্যাসে পার্থক্য আছে এবং পরের নথিতে একটি অতিরিক্ত অঙ্ক রয়েছে বলে মনে হয়।
বর্তমানে আমানতের স্থিতি কত, তা ধারাবাহিকভাবে নবায়ন করা হয়েছিল কি না, মধ্যবর্তী সময়ে কোনো অর্থ তোলা হয়েছিল কি না কিংবা নীনার সেপ্টেম্বরের আবেদনের বিষয়ে ইউসিবি কী পদক্ষেপ নিয়েছে, এসব তথ্য ডেইলি ওয়াদা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। ১৯৯২ সালে আখতারুজ্জামান ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত একজন ব্যক্তি। বাংলাদেশে তখন তাঁর সেই পরিবারও ছিল, যে পরিবারের কথা জনসমক্ষে পরিচিত। তবে মিনাকোর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তিনি নিজেও পুরো পরিস্থিতি জানতেন না।
ওয়াদার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আখতারুজ্জামানের সঙ্গে কীভাবে তাঁর পরিচয় হয়েছিল কিংবা কী পরিস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে হয়, তা ব্যাখ্যা করতে চাননি। জাপান থেকে হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বলেন, “ওটা ব্যক্তিগত বিষয়। আমি আপনাকে তা খুলে বলতে পারব না।”
মিনাকো জানান, পরে তিনি জানতে পারেন, বাংলাদেশে তাঁর স্বামীর আরেকটি পরিবার রয়েছে। তবে দুই পরিবারের জীবন কখনো একত্রিত হয়নি।মিনাকোর ভাষায়, “আমরা কখনো তাদের জীবনের সঙ্গে একীভূত হইনি। আমার স্বামীর সঙ্গে আমাদের জীবন আলাদা ছিল।”
ইউসিবি নিয়ে বিতর্ক
আখতারুজ্জামান ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ব্যাংকটি তাঁর ব্যবসায়িক জীবনের পাশাপাশি কয়েকটি গুরুতর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য নেওয়া ২৫০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র বিরোধ শুরু হয়।
১৯৯৩ সালের এপ্রিলে ইউসিবির পরিচালক হুমায়ুন জহির ধানমন্ডির বাসভবনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সাত ব্যক্তির মধ্যে আখতারুজ্জামানও ছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
১৯৯৯ সালে আখতারুজ্জামানের পরিবারের সদস্য ও সশস্ত্র ব্যক্তিরা ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদের একটি সভায় ঢুকে পড়েন। সেখানে পরিচালকদের মারধর করা হয় এবং তাঁদের দিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদটি ভেঙে দেয়। ২০১০ সালে আখতারুজ্জামান আবার ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদে ফিরে আসেন। ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। নীনার নাম থাকা স্থায়ী আমানতের রসিদটি ওই বছরের ফেব্রুয়ারির।
আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সবচেয়ে দৃশ্যমানভাবে বহন করেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ। তিনি পরিবারের চট্টগ্রামের নির্বাচনী আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার সরকারের ভূমিমন্ত্রী হন।
পরবর্তীকালে তাঁর আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে একাধিক বিস্তৃত অনুসন্ধান হয়েছে। ২০২৪ সালে আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইফুজ্জামান বিদেশে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি কিনেছিলেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৩৬০টি সম্পত্তি থাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশে তাঁর আয়কর বিবরণীতে এসব বিদেশি সম্পদের তথ্য ঘোষণা করা হয়নি বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
সাইফুজ্জামান দাবি করেছিলেন, বৈধ বিদেশি ব্যবসা থেকে তাঁর এসব সম্পদের অর্থ এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি চলমান একটি দেওয়ানি তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর যুক্তরাজ্যের কয়েকটি সম্পত্তির ওপর সম্পদ হস্তান্তর বা নিষ্পত্তি সীমিত করার আদেশ পায়।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার একটি আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অর্থপাচারসংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট জব্দের উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, এসব সম্পত্তির মূল্য ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড।অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো বিচারিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
‘আমি তাদের কখনো দেখিনি’
মিনাকো জানিয়েছেন, আখতারুজ্জামানের বাংলাদেশে থাকা পরিবারের কারও সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়নি। তিনি বলেন, “আমি জানি, সেখানে আরেকটি পরিবার রয়েছে। আসলে তাদের কখনো দেখিনি। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।” ওয়াদা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি বা তাঁর মেয়েরা কেউই বাংলাদেশে আখতারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।
কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ওয়াদাকে জানিয়েছে, জাপানি পরিবারটি সাইফুজ্জামানের কাছ থেকে কিছু হুমকিও পেয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সাইফুজ্জামান তাঁদের কখনো হুমকি দিয়েছিলেন কি না, সরাসরি জানতে চাইলে মিনাকো তা নাকচ করেন। তিনি বলেন, “না, না, আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করি না। তাদের কাছ থেকে আমরা কোনো হুমকি পাইনি, কারণ আমাদের জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমানে আখতারুজ্জামানের বাংলাদেশে থাকা পরিবার সম্পর্কে তিনি যা জানেন, তার বড় অংশই ইন্টারনেট থেকে পাওয়া।
মিনাকোর ভাষায়, “আমি তাদের সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমার তথ্যের উৎস শুধু ইন্টারনেট। এমনকি আখতারুজ্জামানের মৃত্যুও দুই পরিবারকে একত্র করেনি বলে মনে হয়। মিনাকো জানান, বাংলাদেশে থাকা স্বামীর পরিবারের কাছ থেকে নয়, সংবাদমাধ্যমের খবর থেকেই তিনি তাঁর মৃত্যুর কথা জানতে পারেন।
এই দূরত্ব অর্থসম্পর্কিত বিষয়েও বজায় ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। ওয়াদা জানতে চেয়েছিল, তাঁর দুই মেয়ে বাবার সম্পত্তি থেকে তাঁদের প্রাপ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, এমন কোনো অর্থ পেয়েছেন কি না।
জবাবে মিনাকো বলেন, “না, না, আমরা পাইনি।”এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত বলেননি।
ইউসিবিতে সাম্প্রতিক যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা করতে চাননি মিনাকো। তাঁর এক মেয়ে ব্যাংকে যাওয়ার কারণ এবং ওই সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

