চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠার নয় দিন পর মারা গেছেন সিফাতুন নুর (২২) নামে এক গৃহবধূ। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবা মো. নুর।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে একজন গৃহবধূর এমন পরিণতির অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দায়ীদের শনাক্ত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে সিফাতুন নুর মারধরের শিকার হন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে কীভাবে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে কথিত মারধরের চিকিৎসাগত সম্পর্ক কী—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎও থেমে গেল
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিফাতুন নুর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় একটি সম্ভাবনাময় জীবনের পাশাপাশি অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎও চিরতরে শেষ হয়ে গেল।
একটি পরিবারের জন্য এমন মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। বিশেষ করে পারিবারিক বিরোধের জেরে নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে বিষয়টি শুধু পারিবারিক কলহ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
এ ধরনের ঘটনায় আবেগের পাশাপাশি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য উদ্ঘাটন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসার নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সিফাতুন নুরের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি, মামলা হয়েছে কি না এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না—এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি
পারিবারিক জীবনে মতবিরোধ কিংবা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দিতে পারে। কিন্তু কোনো বিরোধের সমাধান কখনোই সহিংসতা হতে পারে না। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সিফাতুন নুরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

