বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড। আসলাম চৌধুরী ও কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বেশ কয়েকজনকে মহড়া দিতে দেখা যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌরসদরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় অনেককে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে দেখা যায়।
আহতদের মধ্যে একজন হচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সোহাগ। তবে অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি।
জানা গেছে, পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী মুন স্টার ক্লাবের উভয় পক্ষ কর্মসূচি পালন করার কথা থাকলেও বিকেল বেলায় সেখানে আর কাউকে দেখা যায়নি। আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা পৌর সদরের এলকে সিদ্দিক স্কয়ারে অবস্থান করেন। অপরদিকে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অবস্থান করেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পাশাপাশি গুলির শব্দও শোনা গেছে। পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পৌরসভা এলাকার আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে সংঘর্ষের একপর্যায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকায় কাজী সালাউদ্দিনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মহাসড়কটি অবরোধ করে রাখা হয় বলে জানা গেছে।
বিকেল ৫টার দিকে আসলাম চৌধুরী এলকে সিদ্দিক স্কয়ারে এসে বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় তিনি বলেন, সীতাকুণ্ডের মধ্যে কোনো সন্ত্রাসীকে বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠন এর মধ্যে রাখা যাবে না। যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কেন্দ্রে অভিযোগ জানাবো। এ সময় তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
এদিকে কাজী সালাউদ্দিন বলেন, প্রশাসনের অনুরোধে পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরো এক ঘণ্টা আগে অনুষ্ঠান শুরু করার ঘোষণা দিই। কিন্তু গুপ্ত হামলার কারণে এবং আমার নেতাকর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কারণে তারা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে পারেনি।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বাঁশবাড়িয়া এলাকায় কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে অবস্থান নেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে কাজী সালাউদ্দিনকে দেখা যায়নি। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

