নির্মাণের পর প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার কিচেন মার্কেট। দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটটি পড়ে থাকায় দোকান বরাদ্দ পাওয়া ৬৩ ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিনিয়োগ করা অর্থ আটকে থাকার পাশাপাশি অব্যবহৃত দোকানগুলোও নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। দ্রুত মার্কেটটি চালু করে দোকান বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করলে আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
১ জানুয়ারি থেকে মার্কেটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা পটিয়া পৌরসভার কিচেন মার্কেট-সংক্রান্ত ব্যবসায়ীদের এক সভায় এসব দাবি জানানো হয়। কিচেন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় সাধারণ সম্পাদক নুরুল হাসান সেলিমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজনীতিবিদ মোজাম্মেল হক।
সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘদিন আগে কিচেন মার্কেট নির্মাণ করা হলেও এখন পর্যন্ত এটি কার্যকরভাবে চালু করা হয়নি। এতে দোকান বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ীরা একদিকে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ হারাচ্ছেন, অন্যদিকে দোকানের জন্য বিনিয়োগ করা অর্থও আটকে আছে। বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকায় দোকানগুলো অনাদর-অবহেলায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় পুরো মার্কেটটি এখন অনেকটা ‘ভূতের বাড়িতে’ পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটটি চালুর সময় পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে পর্যাপ্ত লাইটিং, মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা এবং ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার বিষয় ছিল। তবে এসব সুবিধার কোনোটি যথাযথভাবে দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন মার্কেটে ক্রেতা আকর্ষণ এবং ব্যবসা জমিয়ে তোলার পরিবেশও তৈরি হয়নি।
বক্তারা বলেন, পটিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে কিচেন মার্কেটটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। আধুনিক ও পরিকল্পিত এ মার্কেট চালু হলে ৬৩ ব্যবসায়ী দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে পটিয়া পৌরসভার রাজস্ব আয়ও বাড়বে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও মার্কেটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, তারা কোনো বিরোধে যেতে চান না। পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান চান তারা। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কিচেন মার্কেটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে দ্রুত পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।
তাদের প্রত্যাশা, আলোচনার মাধ্যমে দোকান বুঝিয়ে দেওয়া, মার্কেটের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান এবং প্রয়োজনীয় লাইটিং, মাইকিং, প্রচার-প্রচারণাসহ লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সভায় কিচেন মার্কেট সমিতির সভাপতি সাজ্জাদ হোসাইন, মোরশেদুল আলম চৌধুরী, রেজাউল করিম, শফিকুল মান্নান, মো. ইদ্রিস আলী আজগর, আবুল কালামসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে একটি মার্কেট চালু না থাকা শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিই করছে না, এর ফলে পৌরসভাও সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত কিচেন মার্কেট চালু করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী সময়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন বলেও সভা থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, কিচেন মার্কেটটি দীর্ঘদিন ধরে চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা যে সমস্যার মধ্যে আছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মার্কেটটি চালুর ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা রয়েছে, তা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে চিহ্নিত করা হবে। ব্যবসায়ীদের দাবিগুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। পৌর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে মার্কেটটি চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

