সীতাকুণ্ডে ‎বিএনপির সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে মহড়া

‎চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার সংঘর্ষের সময় দুই যুবককে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, অস্ত্র হাতে পাঞ্জাবি পরিহিত যুবকের নাম সিরাজ ও লাল টি-শার্ট পরা যুবকের নাম সাদেক। তারা কার অনুসারী, তা শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ বলছে, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, অস্ত্রের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি।

এদিকে অস্ত্র বহনকারীদের দায় আসলাম চৌধুরী ও কাজী সালাউদ্দিন, কেও নিতে চাইছেন না। তারা সংঘর্ষের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছেন।‎

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি দেখা যায়। একটি ভিডিওতে নীল রঙের পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট পরা এক যুবক অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করছেন। অন্য একটি ভিডিওতে আরেক যুবককে লাল টি-শার্ট পরা অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়।

‎সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জানা যায়, কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মুনস্টার ক্লাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে পালন করাকে কেন্দ্র করে গত ২৭ আগস্ট অনুমতির বিষয়ে অবগত করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু আসলাম চৌধুরী অনুসারীরা মুনস্টার ক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার বিষয়ে কিছু জানায়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে উভয় পক্ষকে পৃথক সময় বেধে দেন। কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদেরকে দুপুর ২টার দিকে অনুষ্ঠান শুরু করার আহ্বান জানান। কিন্তু সকাল ৯টা থেকে আসালাম চৌধুরী অনুসারীরা মুনস্টার ক্লাব দখল করে নেন। এ সময় কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে অবস্থান করেন।

আসলাম চৌধুরী অনুসারীরা মুনস্টার ক্লাব থেকে মিছিল নিয়ে পৌর সদরের দিকে আসার সময় হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় দুই পক্ষের মুখোমুখি হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সিরাজ ও সাদেক অস্ত্রের মহড়া দেয় এবং প্রতিপক্ষের দিকে অস্ত্র তাক করে রাখে।

‎কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী ও বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাফর ভূঁইয়া বলেন, অস্ত্রধারীরা আসলাম চৌধুরী অনুসারী। তাদের বাড়ি মিরসরাই উপজেলায়।

ঘটনার দিন আসলাম চৌধুরীর অনুসারী রোকন মেম্বারকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে মিছিলে দেখা যায়। এই সময় তার পাশে গোলাপি রঙের একটি ব্যাগ বহন করতে দেখা যায়।

স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, ২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পর রোকনের নম্বর থেকে একটি ভয়েস কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র সরঞ্জাম কিনেছেন।

‎কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী মহিউদ্দিন বলেন, বিএনপির আদর্শকে পালন করতে হলে, কখনো অস্ত্র দিয়ে এই আদর্শ পালন করা সম্ভব না। আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা যেভাবে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে এটি শুধু সীতাকুণ্ডের জন্য নয় দলের জন্যও বিপজ্জনক। অবিলম্বে এই অস্ত্রধারীদেরকে গ্রেপ্তার করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

‎সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here