৩১ ঘণ্টার যানজটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভোগান্তি

এজাহার ডেস্ক

টানা ৩১ ঘণ্টার ভয়াবহ যানজটের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যান চলাচল। তবে প্রায় ৪০ কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যানজট পুরোপুরি কাটেনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকেও সোনারগাঁও, মেঘনা, গজারিয়া ও দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের ধীরগতি ও জটলা দেখা গেছে। এতে এখনো চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। ২-৩ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ১০-১২ ঘণ্টা।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সোনারগাঁও, মেঘনা টোল প্লাজা, গজারিয়া, পুরান বাউশিয়া, দাউদকান্দি টোল প্লাজা ও গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। এসব এলাকার কোথাও কোথাও জটলাও তৈরি হয়েছে।

এর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আষাঢ়িয়ার চর ব্রিজ এলাকায় জরুরি সংস্কারকাজের জন্য ঢাকামুখী একটি লেন বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে মহাসড়কে যানজটের সূত্রপাত হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকায় যানজটটি একপর্যায়ে আষাঢ়িয়ার চর থেকে দাউদকান্দি হয়ে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় ঢাকামুখী অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। সেখানে প্রায় পাঁচ মিটার অংশে মাইক্রোকংক্রিট ঢালাই দেওয়া হয়। ঢালাই শক্ত হওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন হওয়ায় একটি লেন দিয়ে সীমিতভাবে যানবাহন চলাচল করানো হয়।

একটি লেন বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক যানবাহনকে সীমিত জায়গা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে প্রথমে আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় যানজট তৈরি হয়। পরে সেটি পেছনের দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। কোথাও কোথাও যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রায় স্থির অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সংস্কার করা অংশের ঢালাই শক্ত হয়ে যাওয়ার পর শনিবার সকালে বন্ধ থাকা লেনটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর আষাঢ়িয়ার চর ব্রিজ এলাকায় দুই লেন দিয়েই যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এতে ধীরে ধীরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানজট কমতে থাকে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম জানান, শনিবার সকালে আষাঢ়িয়ার চর ব্রিজের বন্ধ থাকা লেনটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন দুই লেন দিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় বিভিন্ন স্থানে চালকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে গাড়ির ভেতর ঘুমিয়েও পড়েছিলেন। ফলে লেন খুলে দেওয়ার পর যান চলাচল শুরু হলেও পুরো মহাসড়কের গাড়ির চাপ একসঙ্গে সরানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে যানজট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগছে।

Similar Articles

Advertismentspot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত