মেজর (অব) আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি

অনলাইন সংবাদদাতা

মেজর (অব) আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হট্টগোল, হাতাহাতি

সিটিজি পোস্ট প্রতিবেদক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫২ PM

মেজর (অব) আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হট্টগোল, হাতাহাতি

জামায়াতের মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকার আদালতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে ঢাকার চিপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলায় একদিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুপুরের দিকে আখতারুজ্জামানকে আদালত এলাকায় আনা হয়। পরে তাঁকে ঢাকার চিপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা আড়াইটার দিকে তাঁকে এজলাসে নেওয়া হলে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা সেখানে ভিড় করেন।

এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের কয়েকজন আখতারুজ্জামানকে উদ্দেশ করে ‘বেইমান’ বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াতপন্থী আইনজীবীরাও।

ম্যাজিস্ট্রেট এজলাসে ওঠার আগেই একপর্যায়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে মামলার শুনানি শুরু হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তবে শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার পর আবারও দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের প্রীতি ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তাঁদের হস্তক্ষেপে একপর্যায়ে হাতাহাতি থেমে যায়। তবে কী কারণে এ হাতাহাতির সূত্রপাত, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ কিছু বলতে পারেননি।

গতকাল শনিবার আখতারুজ্জামানকে একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। আজ রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। একই দিন আখতারুজ্জামানকে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি দল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরে নামার পর লাগেজ সংগ্রহের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রলি পেতে ভোগান্তি তৈরি হয়। এ নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়।

লাগেজ পেতে দেরি হওয়া এবং জমজমের পানি না পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।

পরে নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তখন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং হুমকিসূচক ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংসদ সদস্য নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।

ঘটনার পর বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও আখতারুজ্জামান হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও করছিলেন এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছিলেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, বিমানবন্দরের কেপিআই-ভুক্ত এলাকায় ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অনুরোধ করেন নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এ সময় আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। একপর্যায়ে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর সঙ্গেও আখতারুজ্জামান উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করেন। একই সঙ্গে যাত্রীদের জমজমের পানি রাখা বোতল বা পাত্র ট্রলি থেকে ফেলে দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, এসব আচরণের ফলে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হয়।

Similar Articles

Single Sidebar 1
  • সর্বশেষ
  • পঠিত