১২০০ কৃতি শিক্ষার্থী পেল
চট্টগ্রামের পটিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গাজী কে.ডি ফাউন্ডেশনের ‘এসএসসি রিসেপশন অ্যাচিভার্স ২০২৬’। ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১ হাজার ২০০ কৃতি শিক্ষার্থীকে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) পটিয়ার মিনা কনভেনশন হলে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দ্বিতীয় ধাপে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজী কে.ডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া।
যারা ছিলেন অনুষ্ঠানে
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—
– গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ — গাজী কে.ডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের সভাপতি
– ইদ্রিস মিয়া — চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান ও প্রধান অতিথি
– তানভীর শাহরিয়ার রিমন — সেশন স্পিকার; রেনকন এফসি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সিইও/এসিআই প্রোপার্টিজের ডিরেক্টর হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে
– মো. আনিসুর রহমান — জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক
– দীপন কান্তি দে — পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা
– শহিদুল্লাহ শাহরিয়ার — দৈনিক যুগান্তরের ব্যুরো চিফ
– আলী নেওয়াজ চৌধুরী — ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস কনসালট্যান্ট
– ডা. সুমন পালিত
– জাহাঙ্গীর কবির
– জিল্লুর রহমান
– এছাড়া সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও কৃতি শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে বার্তা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইদ্রিস মিয়া গাজী কে.ডি ফাউন্ডেশনের শিক্ষা-সংক্রান্ত উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি অসহায় ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সেশন স্পিকার তানভীর শাহরিয়ার রিমন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নেতৃত্ব, জ্ঞান ও নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
শিক্ষিত প্রজন্ম গঠনের প্রত্যয়
সভাপতির বক্তব্যে গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই গাজী কে.ডি ফাউন্ডেশন শিক্ষা-ভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে তিনি জানান।
কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য স্মরণীয় আয়োজন
এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের সাফল্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিও আয়োজনটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে তাদের আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা শেষ করে এখন তারা উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার নতুন ধাপে প্রবেশ করবে। তাই এই সময় তাদের সামনে আরও বড় লক্ষ্য নির্ধারণ, নিয়মিত পড়াশোনা এবং জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের গুরুত্বও উঠে আসে অনুষ্ঠানের আলোচনায়।
দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিপুলসংখ্যক কৃতি শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে সংবর্ধনা দেওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষা ও মেধার স্বীকৃতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
আয়োজকরা ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার এবং শিক্ষা-বান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের সামনে এখন নতুন লক্ষ্য—উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া, নিজেদের দক্ষতা বিকাশ করা এবং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।
সব মিলিয়ে ‘এসএসসি রিসেপশন অ্যাচিভার্স ২০২৬’ শুধু কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নয়; বরং দক্ষিণ চট্টগ্রামের নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, জ্ঞান, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করার একটি আয়োজন হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।

