চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে হিজড়াদের ‘গুরুমা’ মৌসুমী হিজড়া খুনের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার দিন, সিসিটিভি ফুটেজে ওই যুবককে মৌসুমীর ঘরে ঢুকে তিন ঘণ্টা পর বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক গরু বিক্রির টাকার জন্য খুন করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. মোমিন ওরফে শেখ রনি (৩৪)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার সব্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তবে নগরীর পাহাড়তলী এলাকার পাঠানপাড়ায় ফাল্গুনী হিজড়া কথিত স্বামী হিসেবে তার বাসায় থাকতেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তাকে নগরীর সাগরিকা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় খুলশী থানা পুলিশ।
গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমবাগান রেলওয়ে কলোনিতে নিজের ঘর থেকে মো. মহসিন ওরফে মৌসুমী হিজড়ার (৫২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ১৪ মিনিটে মোমিন নামে ওই যুবক মৌসুমীর ঘরে ঢুকে। প্রায় তিন ঘণ্টা কাটিয়ে ৩টা ৫২ মিনিটের দিকে ঘুরের দরজা খুলে চলে যায়।
সেই ফুটেজ দেখেই মোমিনকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর মৌসুমী তার বাসার পেছনে থাকা খামারের একটি গরু বিক্রি করেন। গরু বিক্রির টাকা তিনি ঘরে রেখেছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের পর মৌসুমীর ঘর থেকে গরু বিক্রির নগদ টাকা ও তার ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন পাওয়া যায়নি।
ওই টাকা লুট করার জন্যই মৌসুমীকে খুন করা হয় বলে ওই যুবক স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতে মৌসুমীর ঘর থেকে বাকবিতণ্ডার শব্দ শুনেছিলেন প্রতিবেশীরা। তবে পরিচিত কেউ এসেছেন মনে করে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরদিন সকালে দীর্ঘ সময় মৌসুমীর কোনো সাড়া না পেয়ে সবাই দরজা খুলে সেখানে মৌসুমীকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল, চোখ ফোলা এবং জিহ্বা বের হয়ে ছিল।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, আর্থিক লেনদেন নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ওই যুবক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

