বাড়ছে যানবাহনের চাপ, দীর্ঘ হচ্ছে যাত্রাপথ; দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ
সাপ্তাহিক এজাহার | বিশেষ প্রতিবেদন
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার—দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন, বাণিজ্যিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করছেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনীতি, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ সড়কের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও নিয়মিত যাত্রীদের মতে, ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, বর্তমান সড়কব্যবস্থার সক্ষমতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্প-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং কক্সবাজারমুখী পর্যটকের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে তোলা জরুরি।
বাড়ছে মানুষের চলাচল, বাড়ছে যানবাহনের চাপ
চট্টগ্রাম নগরী থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এই যোগাযোগপথ স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও পর্যটন খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ছুটির দিন, সরকারি ছুটি এবং পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারমুখী যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে যানজট ও ধীরগতির সৃষ্টি হয় বলে যাত্রীদের অভিযোগ।
একই সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও চাকরিসহ নানা প্রয়োজনে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করেন। ফলে এ মহাসড়কের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কম নয়।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যানবাহনের সংখ্যা আরও বাড়লে বিদ্যমান সড়কব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়বে। তাই সমস্যা তীব্র হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
৬ লেন হলে কী পরিবর্তন আসতে পারে?
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবির পেছনে অন্যতম যুক্তি হলো—উন্নত সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানো।
প্রস্তাবিত ৬ লেনের সড়ক বাস্তবায়িত হলে পরিকল্পিতভাবে যান চলাচলের লেন বৃদ্ধি, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত চলাচল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ যানবাহনের চাপ মোকাবিলায় বাড়তি সক্ষমতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে শুধু লেন বাড়ালেই সব সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সড়ক উন্নয়নের সঙ্গে সঠিক নকশা, নিরাপদ মোড়, প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক, পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা, বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সড়কের দুই পাশে পরিকল্পিত উন্নয়নও জরুরি।
পর্যটননির্ভর অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ
কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা সড়কপথে কক্সবাজারে আসেন। পর্যটন মৌসুমে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হলে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাত উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তাদের দাবি, কক্সবাজারকে ঘিরে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম–কক্সবাজার আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতাও ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা দরকার।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক শুধু একটি যোগাযোগপথ নয়; এটি তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চট্টগ্রামমুখী যাত্রীদের পাশাপাশি কক্সবাজারমুখী পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। কৃষিপণ্য, মাছ, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহনেও সড়কটির ভূমিকা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হতে পারে।
সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
৬ লেনের দাবি উঠলেও সড়ক সম্প্রসারণের সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
তাদের মতে, মহাসড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ, পর্যাপ্ত সাইন-সিগন্যাল, আলোকায়ন, পথচারী পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মহাসড়ক উন্নয়নের সময় স্থানীয় মানুষের চলাচল ও নিরাপত্তার বিষয়টি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রয়েছে।
শুধু প্রশস্ততা নয়, চাই সমন্বিত মহাপরিকল্পনা
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হলে সেটি শুধু রাস্তার প্রশস্ততা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার আওতায় সড়কের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ, বাসস্টপ, পার্কিং, বাজার এলাকা, পথচারী চলাচল, গণপরিবহন এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থাপনাকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এতে ভবিষ্যতে নতুন করে সড়ক কাটাকাটি বা অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের প্রয়োজন কমবে এবং একটি সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সরকারের কাছে দ্রুত উদ্যোগের দাবি
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ চান স্থানীয় নাগরিকরা।
তাদের দাবি, প্রথমে একটি বিস্তারিত সমীক্ষার মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যানবাহনের চাপ, দুর্ঘটনার প্রবণতা, জনবসতি, বাজার এলাকা, ভূমি ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করা হোক।
এরপর বাস্তবসম্মত ও পরিবেশসম্মত পরিকল্পনার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
এখনই পরিকল্পনা, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি
সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগে। তাই যানজট ও যোগাযোগসংকট আরও তীব্র হওয়ার পর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনা করে আগেভাগেই পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে দ্রুত, নিরাপদ ও সক্ষম যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠলে এর সুফল শুধু দুই জেলার মানুষই নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষ ভোগ করতে পারবেন বলে মনে করছেন দাবির পক্ষে থাকা নাগরিকরা।
জনদাবি এখন বাস্তব পরিকল্পনার অপেক্ষায়
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি এখন দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের যোগাযোগ ও উন্নয়ন ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।
তবে এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা, ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব, ভূমি অধিগ্রহণ, জনবসতি ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিস্তারিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং বাস্তবসম্মত হলে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা একটাই—নিরাপদ, দ্রুত ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার স্বার্থে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ভবিষ্যৎ যানবাহনের চাপ বিবেচনায় রেখে পরিকল্পিতভাবে উন্নত করা হোক।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি
সাইফুল ইসলাম চৌধুরী
Similar Articles
- চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি
- পটিয়া পৌরসভায় তীব্র যানজট: অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কাম্য
- পটিয়ায় সড়কের পাশে পৌরসভার ময়লার স্তূপ, চরম ভোগান্তিতে পথচারী ও এলাকাবাসী
- হাতিয়ায় এক ট্রলারে মিলল ৬০ মণ ইলিশ
- যত্রতত্র গড়ে ওঠা ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের ‘Existential Threats Posed by Sea-level Rise’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে ভাষণ দেন।
- চাকরি পাওয়ার খুশিতে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জড়ালেন হত্যা মামলায়
- ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের জন্য হচ্ছে নাইট মার্কেট
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জব্দকৃত জাহাজ নিলামে তুলছে ইরান: ক্ষতিপূরণের অর্থ যাবে ভুক্তভোগী পরিবার ও সামরিক বাহিনীতে!
- ঘুষের ২ লাখ টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রারসহ ২ জন আটক চট্টগ্রামে
- চট্টগ্রামের পটিয়ার আশিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মেছিলেন হারুন ইসলামাবাদী।
- জাতিসংঘে বাংলাদেশ নিয়ে ড. ইউনূসের উচ্ছ্বাস প্রকাশ
- সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর স্ত্রী ইমা বার্টনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
- আগামীকাল বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি
- চুয়েটে নতুন উপাচার্যের পথরোধ, মূল ফটকে অবস্থান শিক্ষার্থীদের
- নিস্ক্রিয় বিবাহিত ও চাকরীজীবিদের দিয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্র দলের কমিটি গঠনের অভিযোগ
- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির আনন্দ মিছিল ও সমাবেশে
- জনগণের শক্তির কাছে সরকারকে মাথানত করতেই হবে-ডা. শাহাদাত
- চবি ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটির সি: সহ সভাপতির পদত্যাগ
- আলোকিত প্রজন্ম গঠনে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ভূমিকা রাখবে- ডা. শাহাদাত
- জিয়া শিশু কিশোর মেলা ঢাকা মহানগর দক্ষিনের কমিটি ঘোষনা
- শেখ হাসিনার অধীনে কোন সাজানো নির্বাচন জনগণ মেনে নিবেনা -এনামুল হক এনাম
- এমবিবিএসে উত্তীর্ণ হাটহাজারীর মেয়ে উম্মে নাজিয়া জাহান তামান্না
- প্রাকৃতিক যে কোন দুর্যোগে বিএনপি জনগণের পাশে থাকে – এনামুল হক এনাম
- সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ রহিমকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

